Ad Size: 180X90 px
Ad Size: 180X600 px

তাজমহলের পূর্ব নাম ছিল তেজো মহালয়

প্রকাশকালঃ 2017-04-09 01:27:48

তাজমহলের পূর্ব নাম ছিল তেজো মহালয়

অনলাইন ডেক্স: আমরা নেহেরু মার্কা ইতিহাসের বদৌলতে পড়েছি- সম্রাট শাজাহান তার প্রিয়তম স্ত্রীর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে তাজমহল নির্মান করেন। এতে ২০ হাজার শ্রমিক, ২২ বছর ধরের কাজ করে, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।

শুরুতেই নেহেরু মার্কা ইতিহাস কেনো বললাম, তার ব্যাখ্যা দিয়ে নিই। অখণ্ড ভারত দুই টুকরা হওয়ার পর, বর্তমান ভারতের শাসনভার- ব্রিটিশদের এজেন্ট নেহেরুর কাছে হস্তান্তর হলে, ইতিহাস রচয়িতাদের প্রতি নেহেরু সরকারে একটি অলিখিত নির্দেশ ছিলো- মুসলমানদের নামে কোনো কিছু খারাপ বলা যাবে না। যেখানে দরকার বলতে হবে ভালো ভাবে, আর যেটা ভালো ভাবে বলা যাবে না, সেটাকে এড়িয়ে যেতে হবে। যেমন ২৮ এপ্রিল ১৯৮৯ সালে, পশ্চিমবঙ্গের সেকুকুরলার বামফ্রন্ট সরকার মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ এর মাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে, যার মূল কথা ছিলো- “ভারতের মুসলমান আমলের সময়কে কোনোরকম বিরূপ সমালোচনা করা যাবে না। মুসলমান শাসকরা যে হিন্দু মন্দির ধ্বংস করেছে তা উল্লেখ করা যাবে না।” এই নির্দেশ অনুযায়ী বাংলার ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তকগুলো সংশোধিত বা লিখিত হয় আর তাতে লিখা হয় এইধরণের ইতিহাস - “গজনীর সুলতান মাহমুদ ১৭ বার ভারতে অভিযান পরিচালনা করেন”। কিন্তু প্রতিবারই সুলতান মাহমুদ যে লক্ষ লক্ষ হিন্দু পুরুষকে খুন করে লক্ষ লক্ষ হিন্দু মেয়েকে বন্দী করে নিয়ে গিয়ে যৌনদাসী হিসেবে বাজারে বিক্রি করেছিলো, আর সেই সাথে সোমনাথ মন্দিরের মূর্তি ভেঙ্গে ফেলে মন্দির লুঠ করে কোটি কোটি টাকার সমমূল্যের সম্পদ লুঠ করে নিয়ে গিয়েছিলো, সেই ইতিহাস কোথাও লিখা নেই। হিন্দু ছেলে মেয়েরা প্রকৃত ইতিহাস জানবে কিভাবে, কোথা থেকে ?

যা হোক, ফিরে যাই তাজমহলের ইতিহাসে, প্রথমে মিথ্যা প্রচারণার পোস্টমর্টেম করি, শেষে প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমান দিয়ে লেখার পরিসমাপ্তি ঘটাবো।

তাজমহল নির্মানের ইতিহাস সম্পর্কে বলা হয়, তাজের নকশা করার জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার ডাকা হয়েছিলো এবং সেই নকশার সাথে কাঠের তৈরি তাজের একটি ছোট্ট নমুনা দাখিল করতে বলা হয়েছিলো। বহু নকশা ও নমুনা জমা পড়েছিলো এবং শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর নামকরা স্থপতিদের ডেকে একটা পরিষদ গঠন করা হয় এবং সেই পরিষদ তাজের চুড়ান্ত নমুনা নির্বাচন করে এবং এই নমুনা হলো পারস্য বা তুরস্কের স্থপতি ওস্তাদ ইশা নামের এক ব্যক্তির; হ্যাঁ, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ই বলছে এইসব কথা।

এখন কমনসেন্সটাকে একটু খাটান। তাজের মতো একটি বিখ্যাত অট্টালিকা, যার মতো সৌন্দর্যময় দ্বিতীয় কোনো অট্টালিকা এখনও পৃথিবীতে নেই। যার সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেছিলেন, পৃথিবীতে দুই ধরনের মানুষ আছে; এক. যারা তাজমহল দেখেছে, আর দুই. যারা তাজমহল দেখে নি। সেই তাজমহলে নকশা যার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে, তিনি পারস্য না তুরস্কের লোক, সেই কথাই কেউ ঠিক মতো বলতে পারছে না। ইনি নাকি আবার বিখ্যাত স্থপতি ! যার দেশ সম্পর্কেই সঠিক কিছু জানা যাচ্ছে না, তার সম্পর্কে আর অন্যান্য তথ্য জানার চেষ্টা করাটাই তো বৃথা; কারণ, ওস্তাদ ইশা নামের কেউ থাকলে তো তার সম্পর্কে কিছু জানা যাবে ? 

আর একটা বিষয়; চীন ও কোরিয়ার ইঞ্জিনিয়াররা বাংলাদেশের অনেক বড় বড় সেতু, ফ্লাইওভার ইত্যাদি নির্মান করেছে এবং করছে, এর কারণ তারা প্রথমে নিজেদের দেশে ঐসব নির্মান করে দেখিয়েছে, তারপর তাদেরকে ডেকে এনে আমরা তাদেরকে ঐসব বানানোর দায়িত্ব দিয়েছি, এই সূত্রে ওস্তাদ ইশা নামের যদি কেউ থাকতো এবং সে যদি পারস্য বা তুরস্কের কোনো ব্যক্তি হতো, তাহলে নিশ্চয় তাজমহল বা এর মতো বা এই জাতীয় কোনো অট্টালিকা পারস্য বা তুরস্কে নিশ্চয় থাকতো, সেটা কি আছে ?

যদি ধরে নিই শাজহান তাজমহল বানিয়েছিলো, তাহলে এই সব বিক্রীত ঐতিহাসিকদের মতে, তাজমহলের নির্মান শরু হয়- কারো মতে ১৬৩০, কারো মতে ১৬৩১, কারো মতে ১৬৩২, আবার কারো মতে ১৬৪১ সালে। ১৬৪১ সালে কোনোমতেই সম্ভব নয়; কারণ, শাজাহানের জীবনী বাদশানামার তথ্য মতে, শাজাহানের স্ত্রী মমতাজ মহলের মৃত্যু হয় ১৬৩০ সালে, এর পর তাকে অস্থায়ীভাবে বুরহান পুরের একটি উদ্যানে সমাহিত করা হয়, মৃত্যুর ৬ মাস পর তাকে তাজের মধ্যে এনে স্থায়ীভাবে কবরস্থ করা হয়। এই সূত্রে ১৬৩২ সালও গ্রহনযোগ্য নয়; কারণ, ‘বাদশানামা’য় উল্লেখ আছে, আরবি মাস ১৫ জমাদিয়াল আউয়াল মমতাজের মৃতদেহ তাজের মধ্যে স্থানান্তরিত করা হয়। আরবি বছর যেহেতু হয় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনে, সেহেতু ঐ দিনটি ইংরেজি সাল অনুযায়ী সঠিক কোন তারিখ ছিলো তা বের করা খুবই কঠিন হিসাবের একটা ব্যাপার, এই হিসেবকে এড়িয়ে গিয়ে যদি ধরে নিই যে, মমতাজের মৃত্যুর সময়টি ছিলো ১

Ad Size: 280X200 px

সাম্প্রতিক...

Ad Size: 280X90 px