Ad Size: 180X90 px
Ad Size: 180X600 px

রামায়ণের এই ১০টি অজানা তথ্য আপনি কখনই শোনেননি!

প্রকাশকালঃ 2017-04-05 07:06:20

রামায়ণের এই ১০টি অজানা তথ্য আপনি কখনই শোনেননি!

ধর্ম ডেক্স,কৃষ্ণ বার্তা:হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণের কাহিনী প্রায় সকলেরই জানা। মূল রামায়ণটি লিখেছিলেন ঋষি বাল্মিকী। এর পরও তুলসিদাস ও আরও অন্যান্য বেদ পণ্ডিতরা নতুন করে রামায়ণ লিখেছিলেন। কিছু পার্থক্য থাকলেও রামায়ণের মূল ঘটনা একই। মূল ঘটনা সম্পর্কে সবাই কমবেশি অবহিত হলেও, এমন কিছু তথ্য আছে যা নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি।

১) দশ মাথা রাবণ রাক্ষসদের রাজা বলেই পরিচিত। কিন্তু এই রাবণ ছিলেন অসাধারণ একজন বীণা বাদক। ছোটবেলায় এই দশ মাথার জন্য সকলের কাছে ভয়ের পাত্র ছিলেন তিনি। রাক্ষস হলেও উচ্চশিক্ষিত ছিলেন রাবণ। কিন্তু তিনি যে সঙ্গে একজন বীণাবাদক ছিলেন এটা অনেকেরই অজানা।

২) ১৪ বছরের বনবাসে একদিনও ঘুমাননি লক্ষ্মণ। দাদা ও বৌদিকে রক্ষা করার জন্যই দীর্ঘ ১৪ বছরের ঘুম বিসর্জন দিয়েছিলেন লক্ষ্মণ। বনবাসের প্রথম দিন তাঁর সামনে ঘুমের দেবী আবির্ভূত হন। তখন লক্ষ্মণ তাঁর কাছে অনুরধ করেন যে, আগামী ১৪ বছর যেন তাঁর চোখে ঘুম না আসে। কারণ না ঘুমিয়ে দাদা বৌদিকে রক্ষা করতে চান তিনি। লক্ষ্মণের অনুরোধে তুষ্ট হন দেবী কিন্তু জানান যে এই ঘুম অন্য কাউকে ভাগ করে নিতে হবে। তখন লক্ষ্মণের বৌ তথা সীতার বোন উর্মিলা এই ঘুমের ভার নেন এবং তানা ১৪ বছর ঘুমিয়ে কাটান। আর এই কারণেই এই মহাকাব্যে উর্মিলা সম্পর্কে তেমন আলোচনা নেই।

৩) রামায়ণে লক্ষ্মণ রেখার ঘটনা সকলের জানা এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু বাল্মীকির রামায়ণে এই অংশের কোন উল্লেখ নেই। এই কাহিনী উঠে আসে যখন লঙ্কা কাণ্ড সংস্করণে। রাবণ যখন নিজের শক্তির কথা বড়ো করে বলছিলেন। তখন তার স্ত্রী মন্দোদরী তাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেন যে, লক্ষ্মণের আকাঁ গণ্ডি পেরোতেও অক্ষম ছিলেন তিনি।

৪) রাম সীতা ও লক্ষ্মণ ১৪ বছর ধরে যে বনে ছিলেন তার নাম ছিল দণ্ডকারন্য। সেই সময়ের সবথেকে ভয়ঙ্কর দোইত্যদের বাঁশ ছিল এই জঙ্গল। ৩৫,৬০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে দণ্ডকারণ্যের মধ্যে পড়ে চত্তিশগড়, ওড়িষা, মহারাষ্ট্র এবং অন্ধ্রপ্রদেশ।

৫) কুম্ভকর্ণ ৬ মাস ঘুমাতো এবং খাবার খেতে একদিন জাগত। এই ঘটনা সকলেরই জানা। অতিকায় রাক্ষস হলেও কুম্ভকর্ণ ভালো ছিল এবং রামের বিরুদ্ধে রাবণের ষড়যন্ত্রকে তিনি সমর্থন করেনি। প্রথম থেকে কুম্ভকর্ণ এভাবে ঘুমাতো না। বহু তপস্যার পর ব্রহ্মা তাকে একটি বর দিতে এসেছিলেন। বড় স্বরূপ ইন্দ্রের আসন চাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল কুম্ভকর্ণ।  কিন্তু সেই সময় দেবরাজ ইন্দ্রের হিংসা হয়। তিনি দেবী সরস্বতীকে গিয়ে কুম্ভকর্ণকে এই বড় চাওয়া থেকে আটকাতে বলেন। ফলস্বরূপ কুম্ভকর্ণ বর চাওয়ার সময় দেবী সরস্বতী তার জিভ আটকে ধরেন। তাই তখন ‘ইন্দ্রাসন’ চাওয়ার বদলে মুখ দিয়ে কুম্ভকর্ণ উচ্চারণ করেন ‘নিদ্রাসন’। সেই জন্যই কুম্ভকর্ণ ৬ মাস ঘুমিয়ে কাটাতো।

৬) বিভীষণ ছাড়া রাম রাবণকে বধ করতে পারতেন না। রামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণায় বিভীষণ ছাড়া সকলে সায় দিয়েছিলেন। কিন্তু সীতাকে অপহরণ করে আনার জন্য বিভীষণ রাবণকে রামের কাছে ক্ষলা চাইতে বলেন। তখনই রেগে গিয়ে রাবণ বিভীষণকে বহিষ্কার করেন। তখন বিভীষণ রামের পাশে দাঁড়ায় এবং জানায় ঠিক কীভাবে রাবণকে বধ করা যাবে।

৭) লঙ্কা থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে পাথর দিয়ে বানরসেনারা সেতু তৈরি করেছিল। রামায়ণের ঘটনা প্রায় ১,৭৫০, ০০০ বছর আগের বলে মনে করা হয়। কিন্তু ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাঝে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একই রকম একটি সেতুর খোঁয পায় নাসা। প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, গবেষণা করে দেখা গিয়েছে যে প্রায় সেই রামায়ণের সময়কালেই তৈরি হয়েছিল এই সেতু। এই সেতুকে আদম সেতু বলা হয়।

৮) সীতার সয়ম্বরে ধনুর্ভঙ্গের কাহিনী সকলের জানা। সেই ধনুকটি রাম ছাড়া কেউ তুলে ভাঙ্গতে পারেননি। যেটি অজানা সেটি হল এই ধনুকটি আসলে ছিল মহাদেবের। আর এই ধনুকের নাম ছিল পিনাকা।

৯) রাবণ আগে থেকেই জানতেন যে রামের হাতেই তাঁর মৃত্যু হবে। বিভীষন রামের কাছে রাবণকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছিলেন। কিন্তু রাবণ মুক্তি পেয়ে ভগবান বিষ্ণুর কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য যুদ্ধ থেকে বিরতি নেননি তিনি বলেছিলেন, “যদি রাম আর লক্ষ্মণ মানুষ হন, তাহলে আমি সীতাকে অপহরণ করব এবং আমিই জিতব। কিন্তু ওরা যদি ভগবান হন তাহলে আমি ওদের হাতেই মারা যাবো এবং মুক্তি পাবো।”

১০) নিজেকে প্রমাণ করতে যখন আবার পরীক্ষা দেওয়ার কথা সীতা রামকে,তখন সীতা ঠিক করেন যে তাঁর মা বসুমতীর কাছেই আবার চলে যাবেন তিনি। মাটির দেবী বসুমতী সীতাকে নিয়ে পাতালে চলে গেলে, রামও দুঃখ পান। তখন সরযূ নদীতে মানব জন্ম ত্যাগ করেন রাম।

Ad Size: 280X200 px

সাম্প্রতিক...

Ad Size: 280X90 px